http://nameofsenary.blogspot.com/সময়ের এক ফোঁড়, আর অসময়ের দশ ফোঁড়’-এটা প্রবাদ। দেশের নদী ভাঙন ঠেকাতে
অসময়ে যে কাজ চলছে তা এই প্রবাদের কথাই মনে করিয়ে দেয়। শুষ্ক মৌসুমে নদী
ভাঙন রোধে যেসব জায়গায় কাজ করার কথা, সেসব জায়গায় কাজ হয়নি। রাজনৈতিক
বিবেচনায় বিভিন্ন প্রকল্পে বরাদ্দ দেয়া হলেও তার সুফল জনগণ পায়নি। অথচ
গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের কাজ আটকে গেছে অর্থের অভাবে। ফলে বর্ষায় তীব্র নদী
ভাঙন দেখা দেয়ায় বিলীন হচ্ছে আবাদি জমি, বসতবাড়ি, শিক্ষা ও ধর্মীয়
প্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি অফিস, ব্রিজ-কালভার্টসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।
অন্যদিকে, সীমান্ত নদী ভাঙনে দেশ হারাচ্ছে মূল্যবান ভূ-খন্ড। এতে করে বদলে
যাচ্ছে দেশের মানচিত্র। জানা গেছে, সীমান্ত এলাকায় তিস্তা, ধরলা, ইছামতি ও
পদ্মার ভাঙন এতটাই তীব্র যে এটা সামাল দেয়া না গেলে বাংলাদেশ এই বর্ষায় শত
শত একর জমি হারাবে। যা বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে দেশের মানচিত্রের ওপর। যৌথ
নদী কমিশনের তথ্যানুযায়ী, সীমান্ত নদী ভাঙনে হারিয়ে যাওয়া এসব ভূমি ভারতীয়
অংশে জেগে উঠলে তার ওপর বাংলাদেশের কোন নিয়ন্ত্রণ থাকবে না। বরং ১৯৭৪ সালের
মুজিব-ইন্দিরা চুক্তি মোতাবেক সীমান্ত নদী যত বাংলাদেশের ভেতরে প্রবেশ
করবে-ভারত ততই লাভবান হবে। এই চুক্তি মোতাবেক সীমান্ত নদীর মধ্য স্রোতে
হবে দু’দেশের সীমানা।
সরকারের পক্ষ থেকে উন্নয়নের ব্যাপক প্রচারণা
চালানো হলেও নদী ভাঙন থেকে মানুষের জমি, বসতবাড়ি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা
রক্ষার তেমন উদ্যোগ নেয়া হয়নি। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ধুঁকছে অর্থাভাবে।
অর্থের সংস্থান না থাকায় অনেক ঠিকাদার কাজ করার আগ্রহ পর্যন্ত হারিয়ে
ফেলছেন। সংসদ সদস্যদেরও নানা অভিযোগ পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ওপর। তাদের
মতে, প্রকল্প অনুমোদনের জন্য পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে ধরনা দিতে দিতে
সরকারের মেয়াদই শেষ হয়ে গেছে। এরপরও কেউ সঠিক কথা বলছেন না। পানি উন্নয়ন
বোর্ডের মহাপরিচালকের কাছে গেলে তিনি বলেন, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব
সব জানেন। সচিবের কাছে গেলে তিনি জানান, পানি সম্পদ মন্ত্রীর কাছে যান। আর
মন্ত্রীর কাছে ধরনা দিলে জানানো হয়- প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে বরাদ্দ না
আসলে কিছুই করার নেই। এমন আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কি একটি গণতান্ত্রিক
সরকারের জন্য শোভা পায়? এমন প্রশ্ন রেখেছেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে নির্বাচিত
সরকারদলীয় সংসদ সদস্য আবদুল ওয়াদুদ বিশ্বাস। তারমত একাধিক সংসদ সদস্য
জানিয়েছেন, বছরের পর বছর ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে
গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু প্রকল্প। আর সরকারের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় এসব
প্রকল্প ভোট যুদ্ধে ইস্যু হয়ে দেখা দেবে।
নদী ভাঙন সবচেয়ে তীব্র হয়েছে
দেশের উত্তরাঞ্চলে। বিশেষ করে লালমনিরহাট, রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম,
রাজশাহী, বগুড়া, পাবনা ও সিরাজগঞ্জ জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা নদী ভাঙনের কবলে
পড়েছে। এছাড়াও চাঁদপুর, জামালপুর, টাঙ্গাইল, সাতক্ষীরা, খুলনা, ভোলা,
পটুয়াখালী, বড়গুনা, বরিশাল ও সিলেট জেলার বিভিন্ন এলাকাও ভাঙছে ব্যাপকভাবে।
শুষ্ক মৌসুমে ভারত পানি দিতে না পারলেও বর্ষায় ভারত বিভিন্ন সীমান্ত নদীতে
দেয়া বাঁধের গেট উন্মুক্ত করে দেয়ায় এবার সীমান্ত নদী ভাঙন আরও প্রকট
হয়েছে। ‘তিস্তা’ নদীর পানি ভাগাভাগি নিয়ে গত পৌনে পাঁচ বছরেও বাংলাদেশ
ভারতের সাথে কোন ধরনের চুক্তিতে উপনিত হতে পারেনি। এই নদীর পানি ভাগাভাগির
কথা উঠলেই ভারত বরাবরই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যনার্জির প্রসঙ্গ
টেনে চুক্তি থেকে দূরে থেকেছে। মমতাও এর সুযোগ নিয়েছে ষোল আনাই। আর সে
কারণেই শনিবার মমতা ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন রেখেছেন,
‘তিস্তা ও সীমান্ত চুক্তি নিয়ে এত তাড়াহুড়া কিসের?’ মমতার এই বক্তব্য
অসৌজন্যমূলক এবং বাংলাদেশের জন্য দুঃখজনক। অথচ বাংলাদেশ সরকার ভারতের জন্য
অনেক কিছুই করেছেন। যার মধ্যে রয়েছে, সন্ত্রাস দমনের নামে ভারতের
উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর বিদ্রোহ দমনে বাংলাদেশকে ব্যবহারের অনুমতি;
করিডোর, ট্রানজিট ও ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা প্রদান; চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর
ব্যবহারের অনুমতি, সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের অনুমতি, ইছামতির
ওপারে ২৪ কিলোমিটার নদী খননের অনুমতি, ফেনী নদী থেকে ভারি পাম্প ব্যবহার
করে পানি উত্তোলনের অনুমতি, বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে ত্রিপুরায় খাদ্য নিয়ে
যাওয়া, ত্রিপুরায় এক হাজার মেগাওয়াটের বিদ্যুতকেন্দ্র নির্মাণের জন্য ভারি
যন্ত্রপাতি নিয়ে যাওয়ার অনুমতি প্রদানসহ ভারত যা যা চেয়েছে তার সবকিছুই
দেয়া হয়েছে। বিনিময়ে তিস্তা নদীর ভাঙন নিয়ে বাংলাদেশকে কষ্ট পেতে হচ্ছে।
জানা
গেছে, সীমান্ত নদী তিস্তা ও ধরলার ভাঙনে কুড়িগ্রামের সুবারকাঠি, জলখানা,
ফকিরের হাট, মোগলবাঘা, হেমেরকুঠি, দলদলিয়া, গোনাইঘাট, কোনাইগাছ ও কাকতৈলসহ
বিভিন্ন এলাকা ব্যাপক ভাঙনের কবলে পড়েছে। তিস্তার ভাঙনে রংপুরের শৈলমারি,
সাঙ্গেরপার, টিলাখাল, বাগডুগড়া, বিজয়বাগ ও মহিপুর এলাকায় চলছে তীব্র ভাঙন।
গাইবান্ধা জেলার গবিন্দী, রতনপুর, বাগুড়িয়া, ফুলছড়ি ও গণকবর এলাকায় ভাঙন
এতটাই তীব্র হয়েছে যে, স্থানীয় এলাকাবাসী পানি উন্নয়ন বোর্ডের ওপরও ক্ষোভ
প্রকাশ করছে। এসব জেলার পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্মকতারা জানান, ভাঙন প্রতিরোধে
দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটবে। অর্থ সঙ্কটের কারণে
ভাঙন প্রতিরোধের সাময়িক কাজও করা সম্ভব হচ্ছে না। অনেক এলাকায় ঠিকাদাররা আর
পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের কথার ওপর আস্থা রাখতে পারছে না। ফলে
তারা ভাঙন প্রতিরোধে নতুন করে অর্থ ঢালতে নারাজ।
সবচেয়ে খারাপ অবস্থা
রাজশাহীর চরখিদিরপুর ও চরখানপুরের। এখানে খিদিরপুরে বিজিবি ক্যাম্প ভেঙে
নদী গর্বে চলে গেছে। আর চরখানপুরের বিজিবি ক্যাম্পটি রক্ষার প্রাণান্ত
প্রচেষ্টা চলছে। স্থানীয় পাউবো কর্মকর্তা জানান, পদ্মার ভাঙন এতটাই তীব্র
যে চরখানপুরের ক্যাম্পটি রক্ষা করা যাবে কিনা-তা নিয়েও আমরা সন্দিহান।
বর্তমানে পদ্মা খিদিরপুরে ভারতীয় সীমান্ত থেকে মাত্র ৩শ’ মিটার দূরে রয়েছে।
আর চরখানপুরে সীমান্ত পিলার থেকে নদী ১শ’ মিটার দূরে রয়েছে। রাজশাহীতে
পদ্মা নদীর ভাঙন থেকে চরখিদিরপুর বিজিবি ক্যাম্প রক্ষায় ইতিমধ্যে অর্ধকোটি
টাকা ব্যয় হয়েছে। পদ্মার ভাঙন থেকে রাজশাহীর পবা উপজেলার চরখিদিরপুর ও
চরখানপুর বিজিবি ক্যাম্প দুটি রক্ষার জন্য পাউবো গত ২৫ জুলাই থেকে
ক্যাম্পের পাশে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু করে। এ নিয়ে বিজিবি সদস্যদের
অভিযোগ, ক্যাম্পটি রক্ষার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে অসময়ে। তার পরও ঠিকাদারের
লোকজন ঠিকমতো ব্যাগ ফেলতে পারেননি। একদিন তার বালি থাকে না, আরেক দিন ব্যাগ
থাকে না। এসব অব্যবস্থাপনার কারণে এই সর্বনাশ ত্বরান্বিত হয়েছে।
নদী
ভাঙনরোধে কি ধরনের পদক্ষেপ নেয়া যায়- জানতে চাইলে যৌথ নদী কমিশনের সাবেক
সদস্য তৌহিদুল আনোয়ার খান ইনকিলাবকে বলেছেন, সময়ের কাজ অসময়ে করলে নদী ভাঙন
রোধ করা যাবে না। তিনি বলেন, সীমান্ত নদী ভাঙন ঠেকাতে সরকার উদ্যোগী না
হলে দেশের মানচিত্রে তা বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে। তার মতে, সীমান্ত নদী
এলাকায় ওপারে ভারতের পরিকল্পিত স্থাপনা নির্মাণ বাংলাদেশ অংশে ভাঙন আরও
তীব্র করেছে।
অন্যদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাবেক মহাপরিচালক মো.
হাবিবুর রহমান ইনকিলাবকে বলেছেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের বরাদ্দ বাড়াতে হবে।
যাতে করে শুষ্ক মৌসুমে বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা যায়। তার
মতে, শুধুমাত্র বর্ষায় ভাঙন ঠেকাতে অস্থায়ীভিত্তিেেত কিছু কাজ করেই বসে
থাকলে চলবে না। শুষ্ক মৌসুমে যাতে স্থায়ীভাবে ভাঙনরোধে কার্যকর পদক্ষেপ
নেয়া যায়, সেদিকে সজাগ থাকতে হবে। এছাড়া অভ্যন্তরীণ নদী ভাঙনরোধ যেমন সম্ভব
নয়; তেমনি সীমান্ত নদী ভাঙনের কবল থেকে দেশের মূল্যবান ভূমি রক্ষা করাও
সম্ভব নয়।
Search This Blog
Monday, August 26, 2013
Saturday, August 24, 2013
মাদকের ভয়াবহতা
লিখেছেন আনিসুল হক: সাহিত্যিক ও সাংবাদিক।
ছেলেটা ক্লাস এইটে পড়ে। আমি তার সঙ্গে গল্পগুজব করি। একধরনের সখ্য তৈরি হয়। তাকে আমি বলি, ‘তুমি ড্রাগস নিয়েছ কখনো?’
ইংরেজি মাধ্যমে পড়া চমৎকার ছেলেটার মুখে এখনো শৈশবের আভা, বলে, ‘একবার-দুবার। বেশি নিই না।’
‘কী নিয়েছ?’
গাঁজা নিয়েছে সে। কী উপায়ে নিয়েছে, তা সে আমাকে বর্ণনা করে। আমি ব্যাপারটা ঠিক ধরতে পারি না। গাঁজা পুড়িয়ে পানীয়র সঙ্গে মিশিয়ে কীভাবে খায়, আমার ঠিক জানা নেই।
সে বলে, ‘আমাদের ক্লাসের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে তিন ভাগের এক ভাগ নিয়মিত নেশা করে। তিন ভাগের এক ভাগ মাঝে-মধ্যে নেয়। আর তিন ভাগের এক ভাগ আনস্মার্ট, ওরা কখনো নেয় না। ভালো ছাত্র। আমরা ওদের পাত্তা দিই না।’
‘তুমি ওই ভালোর দলে থাকলা না কেন?’
‘আমি কীভাবে থাকব। আমি তো অলরেডি স্পয়েল্ড।’
শুনে একটা বরফের সাপ আমার মেরুদণ্ড বেয়ে নেমে যায়। ক্লাস এইটে পড়ে, কত আর বয়স এদের, ১৩ থেকে ১৫-১৬, এদের ক্লাসের দুই-তৃতীয়াংশ ড্রাগস নিয়েছে? এক-তৃতীয়াংশ নিয়মিতভাবে নেয়?
আমাদের এক অভিনেত্রীকে নিয়ে লেখালেখি হচ্ছে অনলাইনে। কয়েক বছর আগেও তিনি ছিলেন পর্দার ব্যস্ত তারকা, এখন তিনি লোকচক্ষুর আড়ালে। সম্প্রতি নিজের একটা ছবি প্রকাশ করেছেন সামাজিক মাধ্যমে, সেই ছবির দিকে তাকানো যায় না। কী চেহারা হয়েছে তাঁর? তিনি লিখেছেন, তিনি ফিরে আসতে চান। কিন্তু পারছেন না।
কত জীবন নষ্ট হয়ে গেল। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন পড়ি, সেই আশির দশকে, আমি যে হলে থাকতাম, সেটা ছিল নেশার আখড়া। গাঁজা থেকে শুরু করে হেরোইন, কী না আসত হলে। কী করে যে নেশারুদের দলের বাইরে থাকতে পেরেছিলাম, এখন নিজেকে ভাগ্যবানই মনে হয়। আমরা অবশ্য মফস্বল থেকে আসা ছেলের দল, আমরা দল বেঁধে গান গাইতাম, টেবিল টেনিস থেকে ফুটবল মাঠ দাবড়ে বেড়াতাম, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে ব্যাপৃত থাকতাম, পড়াশোনা করে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা থাকত, কেউ কেউ টিউশনি করত, আর বেশির ভাগই স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে কোনো না কোনোভাবে জড়িত ছিল। টেলিভিশন কক্ষে এইসব দিনরাত্রি প্রচারের সময় তিলধারণের জায়গা হতো না। তেমনি মোহামেডান-আবাহনী, ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা নিয়েও আমাদের হইহল্লা, মাতামাতি ছিল পাগলপারা। আমরা আসলে ড্রাগসের দলে ঢুকে পড়ার অবকাশটাই পাইনি। শহীদ স্মৃতি হলের তিনতলার বারান্দা থেকে দেখতাম, একটা সুন্দর সাদা গাড়ি এসে থামছে নিচের লনে, রাজহাঁসের মতো। সেখান থেকে বেরোত একজন বুয়েট ছাত্র, লম্বা, ফরসা, দেখতে যেন দেবদূত, তার পরনে হালকা নীল রঙের জিনস, গায়ে সাদা সুতির শার্ট, হাতা গোটানো। ভালো লাগত, খানিকটা ঈর্ষাও হতো। ভিখিরির মতো চৌধুরীদের গেটে দাঁড়িয়ে ভেতরের রাস উৎসব দেখার ঈর্ষা।
ওই ছেলে, একবার এক দীর্ঘ ছুটির সময়, হলের রুমে মরে পড়ে রইল। কয়েক দিন পরে তার লাশ উদ্ধার করা হলো। হাঁ করা মুখে মাছি ভনভন করছে। ছেলেটা নেশা করত।
আমি সেই ছেলেটাকে ভুলতে পারি না।
কয়েক বছর আগের ঘটনা। ঢাকার মোহাম্মদপুরে ঘটল একটা ঘটনা। ক্লাস ফাইভ-সিক্সে পড়ে এক ছেলে। রোজ স্কুলে যায়। স্কুলে যাওয়ার পথে সে পড়ে গেল কুসঙ্গে। নেশা ধরল। বাবা-মা জানেন না। যখন তাঁরা জানলেন, তাঁরা খেপে গেলেন। ছেলেকে আটকে রাখলেন ঘরে। নেশার যন্ত্রণায় ছটফট করা ওই শিশু জানালার কাচ ভাঙল, আর তা ঢুকিয়ে দিল নিজের পেটে। মা বলছেন, আমি নিজের চোখে দেখলাম ছেলে আমার রক্তাক্ত, আমি দৌড়ে গেলাম তাকে উদ্ধার করতে, ভেতর থেকে দরজা আটকানো, আমি কিছুই করতে পারছি না, আমার চোখের সামনে ছেলে মারা গেল। এই বর্ণনা প্রকাশিত হয়েছিল খবরের কাগজে। ধানমন্ডিতে কয়েক বছর আগে ঘটেছিল আরেকটা ঘটনা। এক মা গুন্ডা ভাড়া করেছিলেন তাঁর নিজের সন্তানকে হত্যা করার জন্য। নেশাসক্ত ছেলে মায়ের ওপরে, পরিবারের অন্যদের ওপরে রোজ এতটাই অত্যাচার করত।
এখন সারা বাংলাদেশ নেশার ছোবলে নীল হয়ে যাচ্ছে। কারও কারও মতে, বাংলাদেশে নেশাসক্তের সংখ্যা ৬০ লাখ। তার মানে, প্রতি দুই-তিনটা পরিবারের একটা নেশাসক্ত সদস্য নিয়ে তছনছ হয়ে আছে। হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার হয়ে যাচ্ছে এই নেশাসামগ্রী বিদেশ থেকে আনার জন্য। সেটা দিয়ে প্রতিবছর কয়েকটা পদ্মা সেতু বানানো যেত।
বলা হচ্ছে, ইয়াবা আসে থাইল্যান্ড থেকে, মিয়ানমার হয়ে। এই বাণিজ্যের সঙ্গে অতিক্ষমতাবান থেকে শুরু করে নিম্নশ্রেণীর মানুষ জড়িত। সহজপ্রাপ্যতা নেশা দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ার মূল কারণ।
সেদিন আমার বন্ধু চিত্রপরিচালক মোস্তফা সরয়ার ফারুকী টেলিফোনে আকুতি জানাচ্ছিলেন, আপনারা করছেনটা কী। আপনি জানেন, আজ থেকে দশ-বিশ বছর পরে এই ছেলেমেয়েগুলোর কী দশা হবে? তখন পুরো দেশটার কী হবে?
ইয়াবা ক্ষতি করে মস্তিষ্কের। প্রথম প্রথম না ঘুমিয়ে, অক্লান্ত চেহারা নিয়ে থাকার জন্য ব্যবহূত হয়। দিনে দিনে এর ওপরে নির্ভরতা বাড়ে, তখন ডোজ লাগে বেশি। মেজাজ খিটখিটে হবে, স্মৃতি দুর্বল হবে, যৌন ক্ষমতা চলে যাবে, খিদে থাকবে না, শেষতক মস্তিষ্ক কর্মক্ষমতা হারাবে। অপ্রকৃতিস্থ হয়ে পড়বে আসক্ত ব্যক্তি। হূৎপিণ্ড ক্ষতিগ্রস্ত হবে, কিডনি ও ফুসফুস নষ্ট হবে। শেষ পরিণতি হবে মৃত্যু। তার আগে নেশাসক্ত ব্যক্তিটি হয়ে পড়বে এক বোঝা। সে নিজে কিছু করতে পারবে না, আশপাশের লোকদের জীবনকেও দুর্বিষহ করে তুলবে।
আপনার সন্তানকে স্কুলে দিচ্ছেন, কলেজে দিচ্ছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে দিচ্ছেন, সে সেখানে কী করছে আপনি জানেন না। সন্ধ্যায় যাচ্ছে রেস্তোরাঁয়, পেছনের স্মোকিং জোনে ঢুকে কী করছে আপনি জানেন? ঢাকার সিসা লাউঞ্জগুলোয় নিষ্পাপ চেহারার আড়ালে কী হয়, আমরা খোঁজ রাখি? সামাজিক-পারিবারিক মূল্যবোধ বলে আর কিছুই অবশিষ্ট থাকছে না। এবং তারই সূত্র ধরে বাড়ছে অপরাধ। কাগজে লিখেছে, পুলিশকর্তা বলছেন, এখন যত অপরাধী ধরা হচ্ছে, এদের প্রায় সবাই নেশাসক্ত। নেশার কারবারিরা অপরাধ করছে, নেশার টাকা জোগাড় করার জন্য চুরিচামারি, ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটানো হচ্ছে। এখন অবস্থা এই যে মা খুন করাচ্ছেন সন্তানকে, সন্তান খুন করছে বাবা-মাকে। অথচ সমাজে কোনো বিকার নেই। রাষ্ট্র পরিচালকেরা টুঁ শব্দটি করছেন না। পাচারের সঙ্গে নাম আসছে হোমরাচোমরাদের।
সবচেয়ে ভালো তো নিজেকে নিরত রাখা। ‘নিজের দুটি চরণ ঢাকো তবে, ধরণী আর ঢাকিতে নাহি হবে।’ কিন্তু একটা অল্প বয়সী ছেলে বা মেয়ে এই ড্রাগস-সমুদ্রে নিজেকে বাঁচাবে কীভাবে। তার বন্ধুবান্ধব নিচ্ছে, সে বন্ধুদের দলে গিয়ে কী করে বন্ধুদের চাপ থেকে নিজেকে মুক্ত রাখবে?
আর নেশা শুধু বড়লোকদের ছেলেমেয়েদের সমস্যা নয়। সব বয়সের, সব শ্রেণীর নারী-পুরুষ নেশার দ্বারস্থ হচ্ছে। নেশার টাকা জোগাড় করতে গিয়ে দেহ বিক্রি করছে। নেশাসক্ত বাবার অত্যাচারে সন্তানেরা কেঁদেকেটে অস্থির। রাস্তার শিশুরা পর্যন্ত নানা ধরনের জিনিসপাতি নিয়ে নেশা করছে।
বিশ বছর পরের বাংলাদেশের দিকে কে তাকাবে?
ছেলেটা ক্লাস এইটে পড়ে। আমি তার সঙ্গে গল্পগুজব করি। একধরনের সখ্য তৈরি হয়। তাকে আমি বলি, ‘তুমি ড্রাগস নিয়েছ কখনো?’
ইংরেজি মাধ্যমে পড়া চমৎকার ছেলেটার মুখে এখনো শৈশবের আভা, বলে, ‘একবার-দুবার। বেশি নিই না।’
‘কী নিয়েছ?’
গাঁজা নিয়েছে সে। কী উপায়ে নিয়েছে, তা সে আমাকে বর্ণনা করে। আমি ব্যাপারটা ঠিক ধরতে পারি না। গাঁজা পুড়িয়ে পানীয়র সঙ্গে মিশিয়ে কীভাবে খায়, আমার ঠিক জানা নেই।
সে বলে, ‘আমাদের ক্লাসের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে তিন ভাগের এক ভাগ নিয়মিত নেশা করে। তিন ভাগের এক ভাগ মাঝে-মধ্যে নেয়। আর তিন ভাগের এক ভাগ আনস্মার্ট, ওরা কখনো নেয় না। ভালো ছাত্র। আমরা ওদের পাত্তা দিই না।’
‘তুমি ওই ভালোর দলে থাকলা না কেন?’
‘আমি কীভাবে থাকব। আমি তো অলরেডি স্পয়েল্ড।’
শুনে একটা বরফের সাপ আমার মেরুদণ্ড বেয়ে নেমে যায়। ক্লাস এইটে পড়ে, কত আর বয়স এদের, ১৩ থেকে ১৫-১৬, এদের ক্লাসের দুই-তৃতীয়াংশ ড্রাগস নিয়েছে? এক-তৃতীয়াংশ নিয়মিতভাবে নেয়?
আমাদের এক অভিনেত্রীকে নিয়ে লেখালেখি হচ্ছে অনলাইনে। কয়েক বছর আগেও তিনি ছিলেন পর্দার ব্যস্ত তারকা, এখন তিনি লোকচক্ষুর আড়ালে। সম্প্রতি নিজের একটা ছবি প্রকাশ করেছেন সামাজিক মাধ্যমে, সেই ছবির দিকে তাকানো যায় না। কী চেহারা হয়েছে তাঁর? তিনি লিখেছেন, তিনি ফিরে আসতে চান। কিন্তু পারছেন না।
কত জীবন নষ্ট হয়ে গেল। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন পড়ি, সেই আশির দশকে, আমি যে হলে থাকতাম, সেটা ছিল নেশার আখড়া। গাঁজা থেকে শুরু করে হেরোইন, কী না আসত হলে। কী করে যে নেশারুদের দলের বাইরে থাকতে পেরেছিলাম, এখন নিজেকে ভাগ্যবানই মনে হয়। আমরা অবশ্য মফস্বল থেকে আসা ছেলের দল, আমরা দল বেঁধে গান গাইতাম, টেবিল টেনিস থেকে ফুটবল মাঠ দাবড়ে বেড়াতাম, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে ব্যাপৃত থাকতাম, পড়াশোনা করে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা থাকত, কেউ কেউ টিউশনি করত, আর বেশির ভাগই স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে কোনো না কোনোভাবে জড়িত ছিল। টেলিভিশন কক্ষে এইসব দিনরাত্রি প্রচারের সময় তিলধারণের জায়গা হতো না। তেমনি মোহামেডান-আবাহনী, ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা নিয়েও আমাদের হইহল্লা, মাতামাতি ছিল পাগলপারা। আমরা আসলে ড্রাগসের দলে ঢুকে পড়ার অবকাশটাই পাইনি। শহীদ স্মৃতি হলের তিনতলার বারান্দা থেকে দেখতাম, একটা সুন্দর সাদা গাড়ি এসে থামছে নিচের লনে, রাজহাঁসের মতো। সেখান থেকে বেরোত একজন বুয়েট ছাত্র, লম্বা, ফরসা, দেখতে যেন দেবদূত, তার পরনে হালকা নীল রঙের জিনস, গায়ে সাদা সুতির শার্ট, হাতা গোটানো। ভালো লাগত, খানিকটা ঈর্ষাও হতো। ভিখিরির মতো চৌধুরীদের গেটে দাঁড়িয়ে ভেতরের রাস উৎসব দেখার ঈর্ষা।
ওই ছেলে, একবার এক দীর্ঘ ছুটির সময়, হলের রুমে মরে পড়ে রইল। কয়েক দিন পরে তার লাশ উদ্ধার করা হলো। হাঁ করা মুখে মাছি ভনভন করছে। ছেলেটা নেশা করত।
আমি সেই ছেলেটাকে ভুলতে পারি না।
কয়েক বছর আগের ঘটনা। ঢাকার মোহাম্মদপুরে ঘটল একটা ঘটনা। ক্লাস ফাইভ-সিক্সে পড়ে এক ছেলে। রোজ স্কুলে যায়। স্কুলে যাওয়ার পথে সে পড়ে গেল কুসঙ্গে। নেশা ধরল। বাবা-মা জানেন না। যখন তাঁরা জানলেন, তাঁরা খেপে গেলেন। ছেলেকে আটকে রাখলেন ঘরে। নেশার যন্ত্রণায় ছটফট করা ওই শিশু জানালার কাচ ভাঙল, আর তা ঢুকিয়ে দিল নিজের পেটে। মা বলছেন, আমি নিজের চোখে দেখলাম ছেলে আমার রক্তাক্ত, আমি দৌড়ে গেলাম তাকে উদ্ধার করতে, ভেতর থেকে দরজা আটকানো, আমি কিছুই করতে পারছি না, আমার চোখের সামনে ছেলে মারা গেল। এই বর্ণনা প্রকাশিত হয়েছিল খবরের কাগজে। ধানমন্ডিতে কয়েক বছর আগে ঘটেছিল আরেকটা ঘটনা। এক মা গুন্ডা ভাড়া করেছিলেন তাঁর নিজের সন্তানকে হত্যা করার জন্য। নেশাসক্ত ছেলে মায়ের ওপরে, পরিবারের অন্যদের ওপরে রোজ এতটাই অত্যাচার করত।
এখন সারা বাংলাদেশ নেশার ছোবলে নীল হয়ে যাচ্ছে। কারও কারও মতে, বাংলাদেশে নেশাসক্তের সংখ্যা ৬০ লাখ। তার মানে, প্রতি দুই-তিনটা পরিবারের একটা নেশাসক্ত সদস্য নিয়ে তছনছ হয়ে আছে। হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার হয়ে যাচ্ছে এই নেশাসামগ্রী বিদেশ থেকে আনার জন্য। সেটা দিয়ে প্রতিবছর কয়েকটা পদ্মা সেতু বানানো যেত।
বলা হচ্ছে, ইয়াবা আসে থাইল্যান্ড থেকে, মিয়ানমার হয়ে। এই বাণিজ্যের সঙ্গে অতিক্ষমতাবান থেকে শুরু করে নিম্নশ্রেণীর মানুষ জড়িত। সহজপ্রাপ্যতা নেশা দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ার মূল কারণ।
সেদিন আমার বন্ধু চিত্রপরিচালক মোস্তফা সরয়ার ফারুকী টেলিফোনে আকুতি জানাচ্ছিলেন, আপনারা করছেনটা কী। আপনি জানেন, আজ থেকে দশ-বিশ বছর পরে এই ছেলেমেয়েগুলোর কী দশা হবে? তখন পুরো দেশটার কী হবে?
ইয়াবা ক্ষতি করে মস্তিষ্কের। প্রথম প্রথম না ঘুমিয়ে, অক্লান্ত চেহারা নিয়ে থাকার জন্য ব্যবহূত হয়। দিনে দিনে এর ওপরে নির্ভরতা বাড়ে, তখন ডোজ লাগে বেশি। মেজাজ খিটখিটে হবে, স্মৃতি দুর্বল হবে, যৌন ক্ষমতা চলে যাবে, খিদে থাকবে না, শেষতক মস্তিষ্ক কর্মক্ষমতা হারাবে। অপ্রকৃতিস্থ হয়ে পড়বে আসক্ত ব্যক্তি। হূৎপিণ্ড ক্ষতিগ্রস্ত হবে, কিডনি ও ফুসফুস নষ্ট হবে। শেষ পরিণতি হবে মৃত্যু। তার আগে নেশাসক্ত ব্যক্তিটি হয়ে পড়বে এক বোঝা। সে নিজে কিছু করতে পারবে না, আশপাশের লোকদের জীবনকেও দুর্বিষহ করে তুলবে।
আপনার সন্তানকে স্কুলে দিচ্ছেন, কলেজে দিচ্ছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে দিচ্ছেন, সে সেখানে কী করছে আপনি জানেন না। সন্ধ্যায় যাচ্ছে রেস্তোরাঁয়, পেছনের স্মোকিং জোনে ঢুকে কী করছে আপনি জানেন? ঢাকার সিসা লাউঞ্জগুলোয় নিষ্পাপ চেহারার আড়ালে কী হয়, আমরা খোঁজ রাখি? সামাজিক-পারিবারিক মূল্যবোধ বলে আর কিছুই অবশিষ্ট থাকছে না। এবং তারই সূত্র ধরে বাড়ছে অপরাধ। কাগজে লিখেছে, পুলিশকর্তা বলছেন, এখন যত অপরাধী ধরা হচ্ছে, এদের প্রায় সবাই নেশাসক্ত। নেশার কারবারিরা অপরাধ করছে, নেশার টাকা জোগাড় করার জন্য চুরিচামারি, ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটানো হচ্ছে। এখন অবস্থা এই যে মা খুন করাচ্ছেন সন্তানকে, সন্তান খুন করছে বাবা-মাকে। অথচ সমাজে কোনো বিকার নেই। রাষ্ট্র পরিচালকেরা টুঁ শব্দটি করছেন না। পাচারের সঙ্গে নাম আসছে হোমরাচোমরাদের।
সবচেয়ে ভালো তো নিজেকে নিরত রাখা। ‘নিজের দুটি চরণ ঢাকো তবে, ধরণী আর ঢাকিতে নাহি হবে।’ কিন্তু একটা অল্প বয়সী ছেলে বা মেয়ে এই ড্রাগস-সমুদ্রে নিজেকে বাঁচাবে কীভাবে। তার বন্ধুবান্ধব নিচ্ছে, সে বন্ধুদের দলে গিয়ে কী করে বন্ধুদের চাপ থেকে নিজেকে মুক্ত রাখবে?
আর নেশা শুধু বড়লোকদের ছেলেমেয়েদের সমস্যা নয়। সব বয়সের, সব শ্রেণীর নারী-পুরুষ নেশার দ্বারস্থ হচ্ছে। নেশার টাকা জোগাড় করতে গিয়ে দেহ বিক্রি করছে। নেশাসক্ত বাবার অত্যাচারে সন্তানেরা কেঁদেকেটে অস্থির। রাস্তার শিশুরা পর্যন্ত নানা ধরনের জিনিসপাতি নিয়ে নেশা করছে।
বিশ বছর পরের বাংলাদেশের দিকে কে তাকাবে?
Tuesday, August 20, 2013
খাবার
পদ্ধতি : দই একটা পাতলা কাপড়ে ঢেলে পানি ঝরিয়ে নিতে হবে। এরপর ব্লেন্ডারে দই দিয়ে তাতে কনডেন্সড মিল্ক মিশিয়ে ৫ মিনিট ব্লেন্ড করুন। এখন মিশ্রণটি পরিবেশন পাত্রে ঢেলে ফ্রিজে রাখতে হবে ১ ঘণ্টা।
একটু জমে আসলে ফ্রিজ থেকে বের করে ফল, কিশমিশ, বাদাম, খেজুর দিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করুন।
চলুন যাই চলনবিল
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বিলের নাম চলনবিল। ৩টি জেলা জুড়ে এর বিস্তৃতি। নাটোর, সিরাজগঞ্জ ও পাবনা জেলার বিস্তৃত অংশ জুড়ে যে জলভূমি, বর্ষা এবং বর্ষা পরবর্তী সময়ে দেখা যায় সেটাই বিখ্যাত চলনবিল। শুকনা মৌসুমে এসব বিলে জল থাকে না। তখন চাষাবাদ চলে বিলের জমিনে। তবে বর্ষায় কানায় কানায় পানিতে পরিপূর্ণ হয়ে রূপের পসরা সাজিয়ে বসে।
যাতায়াত ও থাকা ঢাকার গাবতলি থেকে হানিফ এন্টারপ্রাইজ, শ্যামলী পরিবহন, ন্যাশনাল পরিবহন প্রভৃতি বাসে নাটোর যাওয়া যায়। এছাড়া রাজশাহীগামী যে কোনো বাসেই নাটোর আসা সম্ভব। ভাড়া ৩শ’ টাকা থেকে ৭শ’ টাকা। নাটোরের চলনবিল দেখতে গেলে থাকতে হবে নাটোর জেলা সদরে। শহরে থাকার জন্য আছে চকরামপুরে হোটেল ও ভিআইপি হোটেল এবং মাদ্রাসা রোডের হোটেল উত্তরা ও হোটেল মিল্লাত। ভাড়া ২শ’ টাকা থেকে ৬শ’ টাকা।
প্রয়োজনীয় তথ্য
চলনবিলে বেড়ানোর জন্য
স্থানীয় নৌকা পাওয়া
যাবে ভাড়ায়। সারাদিনের
জন্য ভালো মানের
একটি নৌকার ভাড়া
পড়বে ৫শ’ টাকা
থেকে ৬শ’ টাকা।
এছাড়া ইঞ্জিন নৌকা
মিলবে ১ হাজার
টাকা থেকে ২
হাজার টাকায়। সাঁতার
না জানলে অবশ্যই
লাইফ জ্যাকেট সঙ্গে
নেবেন। নৌকায় ভ্রমণকালে
হৈচৈ, লাফালাফি করবেন না।
Sunday, August 18, 2013
নির্বাচন
বর্তমান সংবিধানে নির্বাচনে যাবে না বিএনপি
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বর্তমান সংবিধানের আলোকে কোনো দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে তাতে অংশ নেবে না বিএনপি।
আজ সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বিএনপির পক্ষ থেকে এ কথা জানান তিনি।
বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফকালে আনুষ্ঠানিকভাবে দলীয় বক্তব্য তুলে ধরেন ফখরুল।
মির্জা ফখরুল আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য অনুসারে এ সংবিধানের আলোকে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে সংঘাত আরও বাড়বে। সংকট ঘণীভূত হবে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিরোধী দলের দাবি উড়িয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২৫ অক্টোবরের পর সাংবিধানিক সংকট তৈরি হবে বলে যে কথা তারা বলছে, তা সত্য নয়। সাংবিধানিক সংকট তৈরি হওয়ার কোনো সুযোগই নেই।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বর্তমান সংবিধানের আলোকে কোনো দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে তাতে অংশ নেবে না বিএনপি।
আজ সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বিএনপির পক্ষ থেকে এ কথা জানান তিনি।
বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফকালে আনুষ্ঠানিকভাবে দলীয় বক্তব্য তুলে ধরেন ফখরুল।
মির্জা ফখরুল আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য অনুসারে এ সংবিধানের আলোকে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে সংঘাত আরও বাড়বে। সংকট ঘণীভূত হবে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিরোধী দলের দাবি উড়িয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২৫ অক্টোবরের পর সাংবিধানিক সংকট তৈরি হবে বলে যে কথা তারা বলছে, তা সত্য নয়। সাংবিধানিক সংকট তৈরি হওয়ার কোনো সুযোগই নেই।
Friday, August 16, 2013
স্ত্রীসহ এসবি ইন্সপেক্টরের লাশ উদ্ধার
রাজধানীর চামেলীবাগে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) ইন্সপেক্টর মাহফুজুল হক ও তার স্ত্রী স্বপ্নার লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।আজ সন্ধ্যায় পল্টন থানা পুলিশ খবর পেয়ে তাদের লাশ উদ্ধার করে। ধারণা করা হচ্ছে, দুই তিনদিন আগে তাদের হত্যা করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে পল্টন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবু তাহের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
Thursday, August 15, 2013
ইসলামী দলগুলো নিয়ে এরশাদের জোট
আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট ও বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের বাইরের ইসলামী দল ও অরাজনৈতিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামের মতো সংগঠনগুলো নিয়ে নতুন একটি জোট গঠন করার কথা ভাবছেন মহাজোটের প্রধান শরিক দল জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। এ লক্ষ্যে তিনি নিজেই ইসলামী দল ও সংগঠনগুলোর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করছেন। আর শেষ মুহূর্তে জোট-মহাজোট থেকেও কয়েকটি ধর্মীয় রাজনৈতিক দল বের হয়ে এরশাদের জোটে যোগ দিতে পারে এমন প্রত্যাশাও জাতীয় পার্টির।
জানতে চাইলে জাতীয় পার্টির মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, যেসব দল ও সংগঠন ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাস করেন স্যারের (এরশাদ) সঙ্গে তাদের সবসময় ভালো সম্পর্ক বজায় ছিল। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এ সম্পর্ককে সক্রিয় বিবেচনায় রাখা হয়েছে। স্যারের সঙ্গে সরাসরি দল ও সংগঠনগুলোর শীর্ষ নেতারা যোগাযোগ রক্ষা করছেন। এ ব্যাপারে স্যারই যথেষ্ট ভালো বলতে পারবেন।
হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের রাজনৈতিক সচিব অ্যাডভোকেট কাজী ফিরোজ রশিদ জানান, দুই জোটের বাইরের বিভিন্ন ধর্মীয় রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের নেতারা স্যারের (এরশাদ) সঙ্গে জোট করার আগ্রহ প্রকাশ করে আসছেন দীর্ঘদিন ধরে। স্যার নিজেই সরাসরি বিষয়টি দেখছেন। স্যার এরই মধ্যে ঘোষণা করেছেন একক নির্বাচন করবেন। আমরা এ লক্ষ্যেই পার্টিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।
জানা যায়, জোট-মহাজোটের বাইরে থাকা পীর চরমোনাইর নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফল মজলিস, জাকের পার্টিসহ দেওয়ানবাগ দরবার শরিফ, কুতুববাগ দরবার শরিফ, আটরশির পীর, সায়েদাবাদী হুজুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের পীরদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এরশাদ। সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ চলতি বছরের গোড়ার দিকে গণজাগরণ মঞ্চের যাত্রা শুরুর পর আলোচনায় আসা হেফাজতে ইসলাম ছাড়াও মহাজোট ও ১৮ দলীয় জোটের বাইরে থাকা দলগুলোকে সঙ্গে নিয়ে নতুন জোট গড়ার পরিকল্পনা এঁটেছেন। জাপা নেতারা জানান, ঈদ শেষ হওয়ায় বর্তমানে রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠবে। এতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি রাজনৈতিক সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও প্রবল। আর এমনটি হলে দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রতি মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে উঠবে বলেই বিশ্বাস এরশাদের। তাই এ সুযোগটিকেই কাজে লাগাতে উঠে-পড়ে লেগেছেন তিনি। সাবেক এ রাষ্ট্রপতি মনে করছেন, হেফাজতে ইসলামের সারা দেশে বিশাল জনসমর্থন রয়েছে। হেফাজত নিয়ন্ত্রিত মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও কওমি মাদ্রাসার শিক্ষক-ছাত্ররা এলাকাবাসীর কাছে সুপরিচিত। নানা কারণে তাদের সঙ্গে এলাকাবাসীর রয়েছে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ। তারা যদি ভোটের প্রচারে নেমে পড়েন, তাহলে পরিস্থিতি বদলে যাবে। হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে জাতীয় পার্টির রয়েছে আদর্শিক মিল। অন্যদিকে আওয়ামী লীগকে কোনোভাবেই সহ্য করবে না হেফাজত। আবার জামায়াতের সঙ্গে মতপার্থক্য থাকায় হেফাজতে ইসলাম বিএনপিকে সমর্থন করবে না। জামায়াতের প্রতিষ্ঠাতা মওদুদীকে হেফাজতে ইসলাম সমর্থন করে না। হেফাজত নেতারা মনে করেন, জামায়াতের সঙ্গে ওঠা-বসা ও সংশ্রব রাখা মুসলমানদের জন্য জায়েজ নয়। এসব সমীকরণের কারণে হেফাজতে ইসলামের সমর্থন জাপার দিকেই থাকবে বলেই মনে করছেন এরশাদ। তাই সাবেক এ রাষ্ট্রপতি হেফাজতে ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। সাম্প্রতিক সময়ে এরশাদের প্রতিটি সভা-সমাবেশ, এমনকি দলীয় ফোরামে এরশাদের বক্তব্যের খানিকটা অংশ জুড়েই থাকছে হেফাজতে ইসলাম এমনকি আলেমদের ওপর হামলার কারণে সরকারের সমালোচনা করে কঠোর বক্তব্য।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জাতীয় পার্টির এক প্রেসিডিয়াম সদস্য জানান, স্যারের নেতৃত্বে ধর্মীয় দলগুলো নিয়ে আলাদা জোট হতে পারে। এ জোটে হেফাজতে ইসলামও থাকবে। রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই। সময় যত গড়াবে, অনেক কিছুই ঘটতে পারে। হেফাজতে ইসলাম কোনো রাজনৈতিক দল নয়, ইসলাম রক্ষার জন্য তাদের পাশে ছিলাম। আগামী নির্বাচনে জাতীয় পার্টির পাশে হেফাজত থাকবে। তিনি বলেন, দুই দফায় ঢাকায় আসা হেফাজত কর্মীদের পানি ও শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে পার্টির পক্ষ থেকে। এরশাদ নিজেও রাজধানীর প্রবেশপথগুলোতে হাজির থেকে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছেন হেফাজত কর্মীদের মধ্যে। গত ৫ ও ৬ মের সহিংসতার জন্য সরকার হেফাজত কর্মীদের দায়ী করলেও এরশাদ বিরামহীনভাবে হেফাজত নেতা-কর্মীদের পক্ষে বক্তৃতা-বিবৃতি দিয়ে যাচ্ছেন। বলছেন, হেফাজত কোনো সন্ত্রাসী দল নয়। সহিংসতার জন্য হেফাজতের কোনো কর্মী জড়িত নয়। এরশাদের নির্দেশে উদ্বুদ্ধ হয়ে ৫ মে জাতীয় পার্টির নেতা-কর্মীরা হেফাজতের পক্ষে অংশ নেয়। এতে পার্টির দুজন নেতা নিহত হন। http://nameofsenary.blogspot.com/
জানতে চাইলে জাতীয় পার্টির মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, যেসব দল ও সংগঠন ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাস করেন স্যারের (এরশাদ) সঙ্গে তাদের সবসময় ভালো সম্পর্ক বজায় ছিল। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এ সম্পর্ককে সক্রিয় বিবেচনায় রাখা হয়েছে। স্যারের সঙ্গে সরাসরি দল ও সংগঠনগুলোর শীর্ষ নেতারা যোগাযোগ রক্ষা করছেন। এ ব্যাপারে স্যারই যথেষ্ট ভালো বলতে পারবেন।
হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের রাজনৈতিক সচিব অ্যাডভোকেট কাজী ফিরোজ রশিদ জানান, দুই জোটের বাইরের বিভিন্ন ধর্মীয় রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের নেতারা স্যারের (এরশাদ) সঙ্গে জোট করার আগ্রহ প্রকাশ করে আসছেন দীর্ঘদিন ধরে। স্যার নিজেই সরাসরি বিষয়টি দেখছেন। স্যার এরই মধ্যে ঘোষণা করেছেন একক নির্বাচন করবেন। আমরা এ লক্ষ্যেই পার্টিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।
জানা যায়, জোট-মহাজোটের বাইরে থাকা পীর চরমোনাইর নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফল মজলিস, জাকের পার্টিসহ দেওয়ানবাগ দরবার শরিফ, কুতুববাগ দরবার শরিফ, আটরশির পীর, সায়েদাবাদী হুজুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের পীরদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এরশাদ। সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ চলতি বছরের গোড়ার দিকে গণজাগরণ মঞ্চের যাত্রা শুরুর পর আলোচনায় আসা হেফাজতে ইসলাম ছাড়াও মহাজোট ও ১৮ দলীয় জোটের বাইরে থাকা দলগুলোকে সঙ্গে নিয়ে নতুন জোট গড়ার পরিকল্পনা এঁটেছেন। জাপা নেতারা জানান, ঈদ শেষ হওয়ায় বর্তমানে রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠবে। এতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি রাজনৈতিক সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও প্রবল। আর এমনটি হলে দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রতি মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে উঠবে বলেই বিশ্বাস এরশাদের। তাই এ সুযোগটিকেই কাজে লাগাতে উঠে-পড়ে লেগেছেন তিনি। সাবেক এ রাষ্ট্রপতি মনে করছেন, হেফাজতে ইসলামের সারা দেশে বিশাল জনসমর্থন রয়েছে। হেফাজত নিয়ন্ত্রিত মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও কওমি মাদ্রাসার শিক্ষক-ছাত্ররা এলাকাবাসীর কাছে সুপরিচিত। নানা কারণে তাদের সঙ্গে এলাকাবাসীর রয়েছে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ। তারা যদি ভোটের প্রচারে নেমে পড়েন, তাহলে পরিস্থিতি বদলে যাবে। হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে জাতীয় পার্টির রয়েছে আদর্শিক মিল। অন্যদিকে আওয়ামী লীগকে কোনোভাবেই সহ্য করবে না হেফাজত। আবার জামায়াতের সঙ্গে মতপার্থক্য থাকায় হেফাজতে ইসলাম বিএনপিকে সমর্থন করবে না। জামায়াতের প্রতিষ্ঠাতা মওদুদীকে হেফাজতে ইসলাম সমর্থন করে না। হেফাজত নেতারা মনে করেন, জামায়াতের সঙ্গে ওঠা-বসা ও সংশ্রব রাখা মুসলমানদের জন্য জায়েজ নয়। এসব সমীকরণের কারণে হেফাজতে ইসলামের সমর্থন জাপার দিকেই থাকবে বলেই মনে করছেন এরশাদ। তাই সাবেক এ রাষ্ট্রপতি হেফাজতে ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। সাম্প্রতিক সময়ে এরশাদের প্রতিটি সভা-সমাবেশ, এমনকি দলীয় ফোরামে এরশাদের বক্তব্যের খানিকটা অংশ জুড়েই থাকছে হেফাজতে ইসলাম এমনকি আলেমদের ওপর হামলার কারণে সরকারের সমালোচনা করে কঠোর বক্তব্য।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জাতীয় পার্টির এক প্রেসিডিয়াম সদস্য জানান, স্যারের নেতৃত্বে ধর্মীয় দলগুলো নিয়ে আলাদা জোট হতে পারে। এ জোটে হেফাজতে ইসলামও থাকবে। রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই। সময় যত গড়াবে, অনেক কিছুই ঘটতে পারে। হেফাজতে ইসলাম কোনো রাজনৈতিক দল নয়, ইসলাম রক্ষার জন্য তাদের পাশে ছিলাম। আগামী নির্বাচনে জাতীয় পার্টির পাশে হেফাজত থাকবে। তিনি বলেন, দুই দফায় ঢাকায় আসা হেফাজত কর্মীদের পানি ও শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে পার্টির পক্ষ থেকে। এরশাদ নিজেও রাজধানীর প্রবেশপথগুলোতে হাজির থেকে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছেন হেফাজত কর্মীদের মধ্যে। গত ৫ ও ৬ মের সহিংসতার জন্য সরকার হেফাজত কর্মীদের দায়ী করলেও এরশাদ বিরামহীনভাবে হেফাজত নেতা-কর্মীদের পক্ষে বক্তৃতা-বিবৃতি দিয়ে যাচ্ছেন। বলছেন, হেফাজত কোনো সন্ত্রাসী দল নয়। সহিংসতার জন্য হেফাজতের কোনো কর্মী জড়িত নয়। এরশাদের নির্দেশে উদ্বুদ্ধ হয়ে ৫ মে জাতীয় পার্টির নেতা-কর্মীরা হেফাজতের পক্ষে অংশ নেয়। এতে পার্টির দুজন নেতা নিহত হন। http://nameofsenary.blogspot.com/
Sunday, August 11, 2013
‘জাকির নায়েক ধোঁকা দিচ্ছেন’
জাকির নায়েক মুসলামানদের ধোকা দিচ্ছেন দাবি করে পিস টিভিতে তার বক্তৃতা না শোনার পরামর্শ দিয়েছেন মাওলানা মীর হাবিবুর রহমান যুক্তিবাদী।
তিনি বলেন, “জাকির নায়েক কোনো আলেম নন। ইসলাম ধর্মীয় কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে তার কোনো সার্টিফিকেটও নেই। তিনি পিস টিভির মাধ্যমে মুসলমানদের নানাভাবে ধোঁকা দিচ্ছেন, বিভ্রান্ত করছেন।”
ভারতের মহারাষ্ট্রে জন্ম নেয়া জাকির নায়েক পিস টিভির কল্যাণে বাংলাদেশেও পরিচিত মুখ। চিকিৎসা শাস্ত্রে ডিগ্রিধারী জাকির আবদুল করিম নায়েক ধর্মের প্রতি অনুরক্ত হয়ে ইসলাম নিয়ে বক্তৃতা দিয়ে আসছেন।
৪৭ বছর বয়সি জাকির নায়েক নিজের প্রতিষ্ঠিত ইসলামী রিসার্চ ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট। এই ফাউন্ডেশনের মালিকানাধীন পিস টিভিতে জাকির নায়েকের বক্তৃতা প্রচার করা হয়। ইসলাম নিয়ে তার বিভিন্ন বক্তব্য নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।
মাওলানা যুক্তিবাদী বলেন, জাকির নায়েক ঈদের নামাজ ও জামাত নিয়ে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিচ্ছেন।
“জাকির নায়েক ঈদের নামাজের ৫ বা ৭ তাকবিরের যে তথ্য প্রচার করছেন, তা কোনো গোত্র বা দলের হতে পারে। কিন্তু আমাদের দেশের শতকরা ৯০ভাগ মুসলমানই হানাফি মাজহাবের। তারা বছর বছর ধরে ৬ তাকবিরের সঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করে আসছেন।”
“জাকির নায়েক বলেছেন, ঈদের খুৎবা শোনার প্রয়োজন নেই। কিন্তু ঈদের খুৎবা শোনা সুন্নত।”
জাকির নায়েক তার টেলিভিশন চ্যানেলের ব্যবসায়িক স্বার্থে বিভ্রান্তিকর মাসলা-মাসায়েল দিয়ে যাচ্ছেন বলেও দাবি করেন মাওলানা যুক্তিবাদী।
যুক্তিবাদীর এই বয়ানের সময় সাবেক বাসন ইউপি’র চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন চৌধুরী, গাজীপুর সিটির ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ফয়সল আহমেদ সরকার, আতাউর রহমান, মমতাজ উদ্দিন ঈদের মাঠে ছিলেন। তারাসহ কয়েক হাজার মুসল্লি ওই ঈদ জামাতে শরিক হন।http://nameofsenary.blogspot.com/
Thursday, August 8, 2013
Eid Moburak
May Allah bless you and Your Dear Ones
With Peace, Prosperity
And Happiness On The Auspicious
Occasion Of Eid-ul-Fitar
Eid Mubarak
With Peace, Prosperity
And Happiness On The Auspicious
Occasion Of Eid-ul-Fitar
Eid Mubarak
Subscribe to:
Posts (Atom)









