Search This Blog

Friday, January 9, 2015

বিশ্ব এস্তেমা নিয়ে কিছু পরিকল্পনা

আমি যখন হাজ্জ এ গেলাম তখন প্রথম দিকে হাজ্জ এর তেমন কোন কষ্ট বুজি নাই। সারাদিন এসি রুমে বসে হাওয়া খাই আর নামাজের সময় নামাজ পড়ি। ৩ বেলা ভাল খাবার সাথে পর্যাপ্ত পানি, জুস তোঁ আছেই। সমস্যা শুরু হল যখন আরাফাতের ময়দানে বসে আছি, সূর্যের তাপে গলা শুকিয়ে কাঠ। সেই সময় একমাত্র ভরসা পানি। কিন্তু মরুভুমির দেশে পানি কিন্তু সহজলভ্য নয়। আমাদের সেই সমস্যার সমাধান করল কয়েকটা কোম্পানি। তারা ট্রাকে ট্রাকে পানি নিয়ে আসলো আর আমাদের ফ্রী পানি দিতে লাগল। পানির সাথে সাথে যেন জীবন ফিরে পেলাম। তখন প্রথম উপলব্ধি করলাম যে পানির আরেক নাম জীবন। বাংলাদেশে বসে এই অনুভূতি পাওয়া সম্ভব না। বাংলাদেশের মানুষ যে কত শান্তিতে থাকে সেটা বোধ হয় তারা নিজেরাও জানে না। কথায় আছে, যে পোকা মিষ্টি আমে জন্মায় সে জানে না মিষ্টি কি জিনিষ। যাই হোক, ফিরে আসি মূল প্রসঙ্গে। হাজ্জ এর সময় দেখলাম হাজার হাজার মানুষ যে যেভাবে পারছে হাজীদের সাহায্য করছে। যেহেতু সেখানে পানি সহজ লভ্য নয় সুতরাং হাজীদের যাওয়া আসার পথে অনেক মানুষ ফ্রী পানির বোতল দিচ্ছে হাজীদের। খেজুর ও অন্যান্য শুকনো খাবার দিচ্ছে কেউ কেউ। সেখানে পানির দাম সম্পর্কে একটু ধারনা দেই, ৮ লিটার তেলের দাম=১ লিটার পানির দাম। সেরকম একটি জায়গায় সকল পানি ফ্রী। এগুলা কিন্তু সরকারি বেবস্তাপনায় হয় নাই। বিভিন্ন কোম্পানি ও সাধারন মানুষ যার যতটুকু ক্ষমতা আছে তাই নিয়ে হাজীদের সাহায্য করে। এবার আসি বাংলাদেশের অবস্থা নিয়ে। আমার বাসার পাশে ই এস্তেমা হচ্ছে। হটাত করে দেখি আমার বাসার সামনের ফুটপাথ কে যেন কাকে ৫০,০০০ টাকায় ভাড়া দিয়ে দিছে। রাস্তায় গাড়ি বের করতে পারি না। পুরা রাস্তা কারা যেন রাতা রাতি দখল করে ফেলেছে। যে পানির দাম ১০-১৫ টাকা সেটা এখন ৪০-৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আমার অফিসের স্টাফ রা আগে সকালে অফিসের নিচে নাস্তা করত যেটা ৩০-৪০ টাকার মধ্যে হয়ে যেত। এখন তারা ২০০ টাকার নিচে নাস্তা করতে পারছে না। অথচ হাজ্জ এর পর এস্তেমায় সবচেয়ে বেশী মানুষের সমাগম হয়। সবাই যখন এই সুযোগে যার যার পকেট ভরতে বেস্ত তখন আমার মত আম জনতা এই মানুষ গুলোর জন্য কিছু করতে চাই। আপাতত প্লান হচ্ছে আমার বাসার সামনে দিয়ে যত মানুষ আসা যাওয়া করবেন তাদের সবাইকে ফ্রী পানির বোতল দেয়া। তৃষ্ণার্ত মানুষ যেন পানির জন্য কষ্ট না পায়। আমরা যারা উত্তরা বসবাস করি তারা যদি সবাই যার যার বাসার সামনে যার যা আছে তা দিয়ে এদেরকে সাহায্য করি তবে হয়তো কিছু মানুষ উপকৃত হবে। যাদের বাসা উত্তারা না তারা উত্তরা তে কোন আত্মীয় স্বজনের বাসায় এসে এ কাজে যোগ দিতে পারেন। যাদের কেউ নাই তাদের জন্য এই বান্দা হাজির। আমি আপনাকে সাহায্য করতে পারব একটু জায়গা দিয়ে। এবার আসি মূল প্রসঙ্গে, আমার ১০,০০০ পানির বোতল দরকার। কোন উদ্যোক্তা কি আছে এখানে যিনি আমাকে কম দামে পানি দিতে পারবেন? আপনি চাইলে পানির বোতলে আপনার কম্পানির নাম লিখে মার্কেটিং করতে পারেন। আমার সুধু দরকার একটু কম খরচ। আপনাদের মধ্যে কেউ যদি থাকেন যিনি পানি দিয়ে সাহায্য করতে পারবেন না কিন্তু টাকা দিতে পারবেন তারাও আমার সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। আমরা সেই টাকা দিয়ে শুকনো খাবার ও আরও বেশি পানি সরবরাহের বেবস্থা করব। সময় কিন্তু নাই। কাল কে থেকে এস্তেমা শুরু। সুতরাং যা করার আজ-কালের মধ্যে ই করতে হবে। আমাকে সরাসরি কল করতে পারেনঃ ০১৭৫৯৮৬৯৩৭৩

No comments:

Post a Comment