Search This Blog

Tuesday, October 8, 2013

ভারতের চক্রান্তে উদ্বিগ্ন গার্মেন্ট মালিকরা


http://nameofsenary.blogspot.com/বাংলাদেশের পোশাক খাত দখলে ভারতের চক্রান্তে উদ্বিগ্ন দেশের গার্মেন্ট ব্যবসায়ীরা। তারা জানিয়েছেন, পূর্বের তুলনায় বর্তমানে এই চক্রান্ত আরও গভীর হয়েছে। তাই তাদের উদ্বেগও বেড়েছে যা ব্যবসায়ীরা প্রকাশ্যেই স্বীকার করছেন।
গার্মেন্ট মালিকরা জানিয়েছেন, দেশের ২০ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি শিল্প গার্মেন্ট খাতের ওপর সর্বাত্মক আক্রমণ শুরু করেছে প্রতিবেশী দেশটি। এ দেশীয় এজেন্টদের মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে তৈরি করা হয়েছে শ্রমিক অসন্তোষ। পাশাপাশি তীব্র আক্রমণ করা হচ্ছে আন্তর্জাতিক ও দেশীয় গণমাধ্যমের মাধ্যমে। এই খাত ধ্বংসের জন্য নিযুক্ত করা হয়েছে মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদেরও। আর পরিকল্পিতভাবে ভারতীয় রুপিরও অবমূল্যয়ন করা হয়েছে।
বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের বাজার ভারতের দখলে চলে যাচ্ছে বলে স্বীকার করেছেন পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতির (বিজেএমইএ) সভাপতি আতিকুল ইসলাম। এ কারণে গার্মেন্ট ব্যবসায়ীদের উদ্বেগের কথাও জানিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, ডলারের বিপরীতে ভারতীয় রুপির অবমূল্যায়ন করায় ক্রেতারা ভারতে চলে যাচ্ছে। এটা আমাদের পোশাক শিল্পের জন্য মারাত্মক হুমকি। এজন্য তিনি ডলারের বিপরীতে টাকার বিশেষ বিনিময় মূল্য বেধে দেয়ার দাবি জানিয়েছেন।
ভারতের রুপির অবমূল্যায়নের কারণে দেশের গার্মেন্ট শিল্পে প্রবৃদ্ধি কয়েক মাসে বেশ কমে গেছে বলে দাবি করেন বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী। তিনি বলেছেন, রুপির বিপরীতে ডলারের মূল্যবৃদ্ধির কারণে এই শিল্পের প্রবৃদ্ধি গত কয়েক মাসে বেশ কমেছে। আগে যেখানে প্রবৃদ্ধি হতো ১০ থকে ১৫ শতাংশ, তা গত কয়েক মাসে হয়েছে মাত্র ২ শতাংশ। তিনি বলেন, আমি সরকারের কাছে এই শিল্পের উন্নয়নের জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি, যাতে করে ডলারের বিশেষ মূল্য নির্ধারণ করা হয়।
ভারতের রুপির অবমূল্যায়নের বিষয়ে তিনি বলেন, প্রত্যেকটি দেশ তাদের পলিসি অনুযায়ী কাজ করে। ভারতেরও নিজস্ব রপ্তানি পলিসি রয়েছে। এছাড়া ভারত ‘টেক্সটাইল জায়ান্ট কান্ট্রি’। তাদেরকে ছোট করে দেখার অবকাশ নেই। তাদের এই খাত নিয়ে পরিকল্পনাও অনেক বড়। তারা তদের পরিকল্পনা অনুযায়ীই কাজ করছে। আমাদের উচিত আমাদের কার্যপরিকল্পনা নিয়ে সামনে এগুনো। তিনি বলেন, রুপির ২৭ শতাংশ অবমূল্যায়ন হয়েছে। টাকার মান ৮ শতাংশ বেড়েছে। এতে ভারত ৩৫ শতাংশ বেশি সুবিধা পাচ্ছে। ভারত তার ১৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য নিয়েই কাজ করছে।
বাংলাদেশ এক্সপোর্টারস এসোসিয়েশন (ইএবি) সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী কয়েকদিন আগে বলেছেন, সম্ভাবনাময় পোশাক শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে সবাইকে এক সাথে কাজ করতে হবে। কেবল পোশাকশিল্প মালিকরা উদ্যোগ নিলেই এই শিল্পকে ধরে রাখা যাবে এটা ঠিক না। আমাদের অনেক ক্রেতাই ভারতের দিকে ঝুঁকছে। বর্তমানে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী ভারত। তিনি বলেন, বেতন ভাতা পরিশোধ রয়েছে এমন গার্মেন্টও শ্রমিক অসন্তোষ হয়। এটা পরিকল্পিতভাবে করা হচ্ছে। কারা এর ইন্ধন দিচ্ছেন তা খুঁজে বের করতে হবে।
বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, আমাদের কাছে মনে হচ্ছে নির্বাচনকে সামনে রেখে গার্মেন্ট খাত নিয়ে অনেক ধরনের মেরুকরণ তৈরি হচ্ছে। এটিকে কেন্দ্র করে দেশী-বিদেশী স্বার্থান্বেষী বিভিন্ন মহল নানাভাবে অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। এ কাজে শ্রমিক নামধারী বহিরাগতদের ব্যবহার করা হচ্ছে। রাজনৈতিক কারণে শ্রমিকদের পুঁজি করে তারা ভোটের রাজনীতি করছেন। তিনি আরও বলেন, অন্যান্য খাতে শ্রমিক মজুরি বৃদ্ধি পাচ্ছে সেটি নিয়ে ফলাও করে লেখা হচ্ছে। কিন্তু ওইসব খাতের কোনোটিই নিয়মিত নয় এবং সারাবছর ধরে চলে না। গার্মেন্ট খাত একটি নিয়মশৃংখলার মধ্য দিয়ে পরিচালিত হয়। তাই চাইলেই এক লাফে অনেক মজুরি বাড়িয়ে দেয়া যায় না। আমরা চাই একটি সিস্টেমের মধ্য দিয়ে শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধির বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে।
ন্যাশনাল সিকিউরিটি ইন্টেলিজেন্সের (এনএসআই) শিল্প বিভাগের এক কর্মকর্তা ইনকিলাবকে জানিয়েছেন, বাংলাদেশের পোশাক শিল্প দখলে নিতে ভারতের একাধিক পরিকল্পনা রয়েছে। এগুলো ধীরে ধীরে বাস্তবায়ন হচ্ছে। ইতোমধ্যে পরিকল্পিতভাবে শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টি করে এই শিল্পকে রুগ্ন বাননো হচ্ছে। আর রুগ্ণ শিল্পগুলোর মালিকানা ভারতীয়রা নিয়ে নিচ্ছে। আর দক্ষ টেকনিশিয়ানের নামে ইতোমধ্যেই আড়াই হাজার ভারতীয়কে দেশের পোশাক খাতে ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে। এরা কারখানাগুলোর গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন। এছাড়া এই খাতের অর্ধেকের বেশি বাইং হাউজের মালিক ভারতীয় নাগরিক।
এদিকে এই খাত ধ্বংসে প্রকাশ্যে মাঠে নেমেছেন সরকারের মন্ত্রিপরিষদ সদস্যরা। গত ২১ সেপ্টেম্বর নৌপরিবহণ মন্ত্রী শাহজাহান খানের উদ্যোগে শ্রমিক সমাবেশ থেকে গার্মেন্ট শ্রমিকদের বেতন ন্যূনতম ৮ হাজার টাকা করার দাবি জানানো পর থেকে শুরু হয় চলমান শ্রমিক অসন্তোষ। সে সমাবেশে ঘোষণা আসে, ৮ হাজার টাকা বেতন না পেলে গার্মেন্টে একটি মাছিও ঢুকবে না। দাবি মানা না হলে সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দেয়া হয়। তিনি বলেন, জীবন দেব তবু শ্রমিকদের দাবির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করবো না। রক্ত দেব তবু শ্রমিকদের দাবি থেকে পিছু হটবো না।
এর পরদিন থেকে শুরু হয় গাজীপুর টাঙ্গাইল কালিয়াকৈর, নারায়ণগঞ্জসহ গার্মেন্ট এলাকায় শ্রমিকদের বিক্ষোভ ভাংচুরও অস্ত্রলুটের ঘটনা। শ্রমিকের ন্যূনতম মজুরি ২০ শতাংশ বাড়িয়ে ৩ হাজার ৬শ টাকা ঘোষণা দেয়ার পর এই অসন্তোষের ঘটনা ঘটে। বিজিএমইএ’র পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মজুরী এর চেয়ে বেশি বাড়ানো সম্ভব নয়। তাহলে তাদের ব্যবসা ছেড়ে দিতে হবে। কারন, একজন গার্মেন্ট মালিক কাপড় ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক পণ্য আমদানি করে তার সঙ্গে সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ দাম যোগ করে বিক্রয় করতে পারেন। এই ২০ শতাংশ থেকেই তাকে শ্রমিকের বেতন, ভবন ভাড়া, বিল আর স্থানীয় মাস্তানদের চাঁদার সংস্থান করতে হয়। এর মধ্য থেকেই তাকে লাভ বের করে নিতে হয়। আর ওই ক্রেতা পোশাকের দাম ৪ থেকে ৮ গুণ বাড়িয়ে বিক্রি করেন ভোক্তার কাছে। আবার একটি পোশাকের উৎপাদন খরচের ৮০ ভাগই নিয়ন্ত্রণ করেন ক্রেতা প্রতিষ্ঠান। কারণ ওই প্রতিষ্ঠানের নিজের বা স্বার্থ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান থেকেই কাপড় ও আনুসাঙ্গিক সামগ্রি কিনে আনতে হয়। এসব ক্রেতা প্রতিষ্ঠান দুই দিক থেকে বিশাল অঙ্কের লাভ করেন।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ওয়ার্কার রাইটস কনসোর্টিয়াম (ডব্লিউআরসি) নামের একটি প্রতিষ্ঠান তাদের এক বিশ্লেষণে দেখিয়েছে, প্রতিটি পোশাকে মাত্র দশ সেন্ট বাড়িয়ে দিলেই বাংলাদেশের গার্মেন্ট শিল্পকে বিশ্বমানের করা সম্ভব।
ন্যূনতম মজুরী প্রসঙ্গে বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদি ইনকিলাবকে বলেন, এটি নির্ভর করে আন্তর্জাতিক বাজার, প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা, রাজনৈতিক পরিস্থিতি এসব বিষয়ের ওপর। শ্রমিকদের বেতন বাড়লে আমরা খুশি হই- তবে সেটা হতে হবে বাস্তবসম্মত। তা না হলে অনেক প্রতিষ্ঠানই টিকতে পারবে না। ওয়েজবোর্ড যেটা ঘোষণা দেবে আমরা সেটাই বাস্তবায়ন করবো।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ তুলেছেন, ক্ষমতাসীন দলের একজন মন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশী-বিদেশী চক্র গার্মেন্ট সেক্টর ধ্বংসের ষড়যন্ত্র করছে। এই সেক্টর দেশের অর্থনীতিকে বাঁচিয়ে রেখেছে, দেশের অগ্রগতিকে বাঁচিয়ে রেখেছে। অথচ এই সেক্টরটি বন্ধ করতে, ধ্বংস করতে দেশী-বিদেশী চক্র উঠে পড়ে লেগেছে। সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে তিনি এই অভিযোগ করেন।
এদিকে আন্তর্জাতিক মিডিয়াকেও লাগিয়ে দেয়া হয়েছে দেশের পোশাক খাতের বিরুদ্ধে। তারা প্রতিবেদন ও সম্পাদকিয় করছে বাংলাদেশের গার্মেন্ট শ্রমিক শোষণের। শ্রমিকদের দাবির প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করে ২৬ সেপ্টেম্বর ‘ফেডআপ ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক সম্পাদকিয় লিখেছে নিউ ইয়র্ক টাইমস। এছাড়া বিবিসি’ও শ্রমিকদের আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়ে সংবাদ প্রচার করছে। অথচ এরা বলছে না, আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের বাড়তি দামে বাংলাদেশ থেকে পোশাক কিনতে। অথচ আন্তর্জাতিক ক্রেতারা প্রতিট পোশাক ৪ থেকে ৮ গুণ পর্যন্ত বেশি দামে বিক্রি করে। বাংলাদেশ থেকে একটি পোশাক ১০০ ডলারে কিনলে সেটি ইউরোপ-আমেরিকার দোকানে বিক্রি হয় ৪শ থেকে ৮শ ডলারে। বিপুল অঙ্কের লাভ করলেও এদের বাড়তি দাম দেয়ার জন্য চাপ না দিয়ে উল্টো বাংলাদেশের গার্মেন্ট মালিকদের ওপর চাপ দিচ্ছে। বাংলাদেশের গার্মেন্ট খাত ধ্বংশের পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই তারা এসব কাজ করছে।
তৈরি পোশাকশিল্পের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সম্প্রতি এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেছেন, পোশাকশিল্প ধ্বংসে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে দেশীয় ও বিদেশী গণমাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে প্রতিবেদন প্রকাশিত হচ্ছে, যা এই শিল্পকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে এবং এই শিল্পের স্থিতিশীলতা নষ্ট করছে। বাংলাদেশ  তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ), বাংলাদেশ নিটওয়ার প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতি (বিকেএমইএ) এবং বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস সমিত (বিটিএমএ) যৌথভাবে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।
গার্মেন্টসেক্টরর গুরুত্বপূর্ণ পদে অনেক ভারতীয় নাগরিকরা রয়েছেন এ বিষয় স্বীকার করে বিকেএমইএ’র ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ হাতেম জানান, বিভিন্ন সংকটের কারণে যে শিল্পগুলো রুগ্ন হয়ে পড়েছে তার বেশির ভাগ মালিকানা ভারতীয় নাগরিকরা নিয়ে নিয়েছেন। তবে শুধু ভারতীয়রা নয় অন্যান্য দেশের নাগরিকরাও মালিকানা নিয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের দক্ষ শ্রমিকের সংকটের কারণে বিদেশীরা এ সেক্টরে গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছে। এর মধ্যে বেশির ভাগই ভারতীয় নাগরিক বলে তিনি স্বীকার করেন।
এভাবে পরিকল্পিতভাবে অস্থিরতা সৃষ্টি করে ইতোমধ্যে এসকিউ, ক্রিস্টাল, মাস্টার্ড, হলিউড, শান্তা, রোজ, ফরচুনা, ট্রাস্ট, এজাক্স, শাহরিয়ার, স্টারলিং ও ইউনিয়নের মতো গার্মেন্টগুলো ক্রয় করে নিয়েছে ভারতীয় নাগরিকরা।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বর্তমানে বিজিএমইএ’র তালিকাভুক্ত বায়িং হাউজের সংখ্যা ৮৯১টি। এর বাইরে আরো কয়েকশ বায়িং হাউস আছে। বায়িং হাউজগুলোর ৬০ থেকে ৭০ ভাগই নিয়ন্ত্রণ করেন ভারতীয় নাগরিকরা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নগরীর অভিজাত এলাকাগুলোতে বাড়ি ভাড়া নিয়ে বায়িং হাউজের রমরমা ব্যবসা করছেন তারা। বিভিন্ন সময় পর্যটক হিসেবে এরা বাংলাদেশে এলেও আর ফিরে যান না। বিদেশী বায়ারদের হাতে নিয়ে তারা এক রকম জিম্মি করে ফেলেছেন বাংলাদেশের পোশাক খাতকে।
বিনিয়োগ বোর্ডের তথ্যানুযায়ী, গত কয়েক মাসে ভারতীয় নাগরিকরা বাংলাদেশের ৩৫টি তৈরি পোশাক কারখানায় ৮ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছে। বাংলাদেশে কারখানা খুলে বসা ভারতের উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে শাহী এক্সপোর্টস, হাউজ অব পার্ল ফ্যাশনস, জে জে মিলস, আমবাত্তুর ক্লথিং ইত্যাদি।
কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রির সাধারণ সম্পাদক ডি কে নায়ার ভারতীয় একটি সংবাদ মাধ্যমকে জানান, ভারতের তুলনায় বাংলাদেশের শ্রম ব্যয় এক-তৃতীয়াংশ। ভারতে একেকজন শ্রমিকের মাসিক মজুরি গড়ে ৭ হাজার রুপি। সেখানে বাংলাদেশের ব্যয় হচ্ছে আড়াই হাজার রুপির মতো। নায়ার জানান, ইতোমধ্যে ৩৫টির বেশি পোশাকশিল্প প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে তাদের কারখানা খুলেছে।
পশ্চিমবঙ্গের একটি সংবাদপত্রের সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে শ্রমিক অসন্তোষ চলছে। অন্যদিকে চীন শ্রমঘন খাত থেকে সরে আসছে। বর্তমানে চীন ভারতের চেয়ে ১০ গুণ বেশি রপ্তানি করে। এর ১০ শতাংশও যদি ভারতে আসে, তাহলে আমাদের তৈরী পোশাক রপ্তানি দ্বিগুণ হয়ে যাবে। অন্যদিকে তৈরী পোশাক খাতে চীনের ছেড়ে দেয়া বাজার ধরার সামর্থ্য রাখে একমাত্র বাংলাদেশ। কিন্তু খাতটিতে অস্থিতিশীলতা অব্যাহত থাকলে এর সুযোগ নিতে চাইবে অন্য দেশগুলো। এক্ষেত্রে সবচেয়ে এগিয়ে থাকবে ভারত। ভারত সামর্থ্য বাড়াতেই পারে। তবে এটাও ঠিক, বিদেশী ক্রেতারা খুব সহজেই বাংলাদেশ ছেড়ে যাবে না। শ্রম সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো সামলাতে পারলে বাংলাদেশ খুব সহজেই প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারবে। বিজিএমইএ’র নির্বাচিত এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তৈরী পোশাকশিল্পে বাংলাদেশের দুর্বলতার সুযোগ যেকোন  দেশই নিতে চাইবে। ভারতের সামর্থ্যই এক্ষেত্রে বেশি। সাম্প্রতিক দুর্ঘটনায় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো অনেক বেশি নেতিবাচক প্রচারণা চালিয়েছে; যা বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের ভাবমূর্তিতে বড় ধরনের আঘাত হেনেছে।
ওদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে ৩৭ শতাংশ তৈরী পোশাক রপ্তানি করে এ খাতে শীর্ষে রয়েছে চীন। ৫ শতাংশ রপ্তানি করে এর পরের অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। তবে শ্রমঘন শিল্প থেকে সরে এসে হাইটেক ও সংবেদনশীল পণ্য উৎপাদনের দিকে ঝুঁকছে চীন। এটা ধরার চেষ্টায় রয়েছে বাংলাদেশ ও ভারত।

No comments:

Post a Comment